মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান || নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার

জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়ের বিশাল শিমুল বাগান হয়ে ওঠেছে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। বসন্তে শিমুলের রক্তরাঙা সৌন্দর্য দেখতে দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকরা হাজির হচ্ছেন জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগানে।
তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরঘর এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তীর্ণ এক নান্দনিক সৌৗন্দর্যের লীলাভুমি শিমুল বাগান। পুরো এলাকাজুড়ে টকটকে লাল শিমুল ফুল গাইছে বসন্তের আগমনী গান। বসন্ত এখনো আসেনি। তবুও শিমুল বাগানের বর্তমান চিত্র বলে দিচ্ছে বসন্ত আসি আসি করছে।
একপাশে মরুপ্রায় যাদুকাটা পেরিয়ে বারেক টিলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর অন্যপাশে লাল ফুলের এই বাগান যে কাউকে আকৃষ্ট করছে পর্যটকদের। শিমুলের ডালে ডালে কিচির মিচিরে ব্যস্ত পাখিরা আর বাসন্তি হাওয়ায় শিমুলের দোল খাওয়া দেখে হৃদয় জুড়িয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা।


২০০২ সালে টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী লাউড়েরগড় গ্রামে বাণিজ্যিক এই শিমুলের বাগান গড়ে তোলেন বাদাঘাট (উত্তর) ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন। তার আর পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান। ২ হাজার ৪শ শতক জমিতে এই শিমুল বাগান গড়ে তোলেন জয়নাল আবেদীন। ফাগুন আসার আগেই প্রায় এক হাজার এর মত গাছে ফুল ফোটে আছে তা দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ।
বাগানমালিক জয়নাল আবেদীন প্রয়াত হয়েছেন, কিন্তু রয়ে গেছে তার শিমুল বাগান। এখন তার বড় ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনের তত্বাবধানে শিমুল গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাগানো হয়েছে লেবু গাছ, এতে বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে আসতে পারেন অতি সহজেই। সড়ক পথে প্রায় সবগুলো পরিবহনেরই বাস চালু আছে এখন।
সুনামগঞ্জ শহরে নেমে আব্দুজ জহুর সেতুর প্রবেশ মুখেই মোটরবাইক পাওয়া যাবে। মোটর বাইক ছাড়া এ রাস্তাায় সিএনজি, লেগুনাও পাওয়া যাচ্ছে। আব্দুজ জহুর সেতু থেকে তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি বাজারে নেমে যাদুকাটা নদী পার হয়েই দেখা মিলে শিমুল বাগানের। সুনামগঞ্জের জেলা সদর থেকে ২৫-৩০ কিঃমিঃ দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কূল ঘেঁষে তাহিরপুর উপজেলার অবস্থান। তাহিরপুর উপজেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমাহার। জাদুকাটা নদী, বারেক টিলা, শিমুল বাগান সহ আরো অনেক চমৎকার স্থান রয়েছে।

সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সিলেটের সুনামগঞ্জ মূলত পর্যটকদের আনন্দ দেয়। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ দেখতে। নদীর মায়াবী রূপ, ছোট ছোট পাহাড় ও টিলা, শিমুল বাগানের অসংখ্য লাল শিমুলের রাজ্য দেখলে আপনি সত্যিই হারিয়ে যাবেন অজানা রাজ্যে। গ্রামীণ মেঠো পথ, আঁকা বাঁকা রাস্তা, গ্রামের সাধারণ মানুষদের সহজ সরল জীবন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরল জীবন যাপন দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ।
গত শুক্রবার ময়মনসিংহ থেকে ঘুরতে আসা হেলেনা আক্তার বলেন, দুর থেকে যতটা শুনেছিলাম শিমুল বাগান সর্ম্পকে তার চেয়ে বেশি সুন্দর সরাসরি এসে দেখলাম।
তবে অনেক পর্যটকরা জানালেন, জায়গা অনেক সুন্দর। এখানে যদি ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আরো বেশি সুবিধা হতো। বিশেষ করে নারী পর্যটকদের জন্য ওয়াশরুম টা বেশি দরকার বলে মনে করছেন পর্যটকরা। অনেকে মন্তব্য করেছেন এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদাড় করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা।
প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে সেলিনা আবেদীন জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে আমরা বাগানের একদিকে অবকাঠামোগত কাজ শুরু করেছি। কাজ শেষ হয়ে গেলে আর কোন সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম জানান, পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে শিমুল বাগানসহ তাহিরপুর উপজেলার অন্যান্য সৌন্দর্যময় স্থানে হাজারো পর্যটকরা ভিড় করেন। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদাড় করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কোন পর্যটক যেনো নিরাপত্তার অভাব বোধ না করতে পারেন এটা নিশ্চিত করার অঙ্গিকার জেলা পুলিশের।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। যাতে কোন পর্যটন কোন ধরনের সমস্যায় না পরতে হয় এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত