বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

সুনামগঞ্জে বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধের পাঁয়তারা

জনদাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি বাস চালু হলেও এই বাস চলাচল বন্ধে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি, প্রতিবন্ধকতা ও নানা সমস্যার মধ্যেই সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যাত্রীসেবায় নিয়োজিত বিআরটিসির ৬টি বাস সরকারি কোষাগারে প্রতি মাসে ১৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিচ্ছে। তবে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা গত বুধবার থেকে দুটি বাস বন্ধ রেখে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সকল বাস তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও গত সোমবার রাতে বিআরটিসি বাস চালক মোয়াজ্জেমকেও শ্রমিক নেতারা হুমকি-ধমকি দিয়ে সুনামগঞ্জ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে বিআরটিসি বাস তুলে নেওয়ার খবরে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিআরটিসি সিলেট ডিপো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে প্রায় দুই মাস ধরে বিআরটিসির ৬টি বাস চলছে। বাস চলাচলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে। সড়কে বিআরটিসি বাসকে সাইড না দেওয়া, রাস্তায় গাড়ি রেখে যাতায়াতে বাধা দেওয়াসহ নানাভাবেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে তারা। যে কারণে যাত্রীদের কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পথে পথে বাধার কারণে যথাসময়ে বিআরটিসির কোন বাসই গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনা। তবে এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই প্রতি মাসে ৬টি বাস থেকে সরকারকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিচ্ছে। বিরাট অংকের রাজস্ব দিয়ে সরকার ভারত থেকে কিস্তিতে আনা বিআরটিসির উন্নত বাসের কিস্তি পরিশোধ করছে।
বিআরটিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মঙ্গলবার তড়িঘড়ি করে একটি সভা আহ্বান করা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। সভায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এক সপ্তাহের মধ্যে বিআরটিসির ৬টি বাস তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। মালিক-শ্রমিকদের হুমকি ধমকি ও দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন আপাতত দুটি বাস তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালে বিআরটিসির স্থানীয় প্রতিনিধি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাস তুলে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত