বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০

সুনামগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে

সজীব দে
সুনামগঞ্জ জেলার ১৪ টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। ফলে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকও আছে সৃষ্টপদের অর্ধেক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর উপজেলার স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তাহিরপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং নতুন এমপিওভূক্ত ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ মডেল উ্চ্চ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
এছাড়াও নতুন এমপিওভুক্ত ছাতক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়, জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শাল্লা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ^ম্ভরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জামালগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ সবগুলো বিদ্যালয়েই শিক্ষক সংকট রয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২াট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় দুটি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। সদর উপজেলার সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ জন এবং সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
নতুন এমপিওভূক্ত ছাতক উপজেলার ছাতক বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈনুল হুসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। ২৭ জন শিক্ষকের পদ আছে। আছেন মাত্র ১৮ জন। কম্বাইন্ড করে ক্লাস নিতে হয়। অনেক সময় ক্লাসে শিক্ষার্থী বেশী উপস্থিত থাকলে পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো মোশাররফ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে ৯জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। শিক্ষক আছেন ৫ জন। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত ৬২০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে তো সমস্যায় পড়তেই হয়। শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল করীম বলেছেন, জামালগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার স্বরূপচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ছায়াদ আলী বলেন, গত ৭-৮ বছর যাবত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ১০ জন শিক্ষকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৪ জন। রীতিমতো ক্লাস চালানো সম্ভব হয় না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু ৫ শ্রেণিতে সুষ্ঠুভাবে পাঠদান করতে আমাদের আরো শিক্ষক প্রয়োজন। তিনি জানান বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিশ^ম্ভরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমান সাজু বলেন, বিজ্ঞান, ইংরেজী ও আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক নেই। খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালাতে হয়। তবুও কোয়ালিটি সম্পন্ন শিক্ষক পাওয়া যায় না। ১৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও আছেন ১৩জন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, আমরাও তো মানুষ। প্রতি সেকশনে ২ জন করে শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু আছেন ১ জন। তিনি যদি অসুস্থ হন তাহলে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয় না। ১২ শিক্ষকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৮ জন। বাংলা, ইংরেজী, ইসলাম ধর্ম ও হিন্দু ধর্মের শিক্ষক নেই। সরকারি হওয়ার পর থেকে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। খন্ডকালনি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হয়। তবে মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া যায় না। তিনি আরো বলেন, সরকারি হওয়ার পর প্রতি শ্রেণির দুই সেকশনে ১২০ জনের বেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করা যায় না।
জগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত শেখর রায় বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতি মুহূর্তেই আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই। নেই জীববিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। শ্রেণি কার্যক্রম এবং দাপ্তরিক কাজ করতে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। ৯ জন শিক্ষকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৪ জন।
জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুরাতন ৫টি সরকারি এবং নতুন এমপিওভূক্ত ১টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটও রয়েছে। তিনি বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয় এনটিআরসি। শূন্য পদের তালিকা আমরা এনটিআরসিতে প্রেরণ করেছি গতকাল। তবে কতগুলো শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে তাৎক্ষণিক তিনি বলতে পারেননি।

(সূত্র- দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর)


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত