রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

সুনামগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ১৫ মণ খেজুর বাজেয়াপ্ত

গতকাল সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে রাস্তার পাশে মেয়াদোত্তীর্ণ, পঁচা, খাওয়ার অযোগ্য আনুমানিক ১৫ মণ খেজুর বাজেয়াপ্ত করা হয়। ২ জন ব্যবসায়ীকে মেয়াদোত্তীর্ণ পঁচা, খাওয়ার অনুপযোগী খেজুর বিক্রয়ের অপরাধে আর্থিক জরিমানা করা হয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, রমজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কোনভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে সেজন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিতভাবে পরিচালনা করবেন। এছাড়া নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও পুলিশ জানায়, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে রাহুল চন্দ বুধবার বিকেলে শহরের ট্রাাফিক পয়েন্ট এলাকায় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে যান। এসময় বেশ কয়েকটি ফলের দোকান থেকে ভ্রাম্যামাণ আদালত মেয়াদর্ত্তীর্ণ ১৫মণ খেজুর জব্দ করেন। খেজুর জব্দের পর দুই ব্যবাসয়ীকে ৫০০টাকা করে জরিমানাও করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ খবর ফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা ভ্রাম্যামান আদালতের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট রাহুর চন্দকে প্রায় আধা ঘন্টা আটকে রেখে আদালত পরিচালনায় করতে বাঁধা দেন। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  এদিকে ভেজান বিরোধী অভিযান বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভ করে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

ম্যাজিস্ট্রে রাহুল চন্দ বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ফল বাজারে যায় ভ্রাম্যামান আদালত। অভিযানে কয়েকটি দোকানের মেয়াদর্ত্তীর্ণ ১৫মন পচা খেজুর জব্দ ও দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। এসময় কিছু ব্যবসায়ী চিল্লাচিল্লি করে বলে তিনি জানান। ফল ব্যবসায়ী রাজীব রায় বলেন, আমাদের খেজুরের মেয়াদ থাকার পরও আদালত তা জব্দ করে নিয়ে গেছে, রোজার প্রথম দিন থেকেই ভ্রাম্যামান আদালত অভিযানের হয়রানি করছে ব্যবসায়ীদের। আমার ভেজাল বিরোধী অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে দোকানপাট বন্ধ রেখেছি। সদর থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদ সুনামগঞ্জবাসীকে আহ্বান করে লিখেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭ ধারা অনুযায়ী কোন পণ্য মোড়কীকরণ করে তাতে পণ্যের ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ উল্লেখ না করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড আরোপযোগ্য। মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করলেও একই দন্ড আরোপযোগ্য। ব্যবসায়ীদের এই বিষয়ে সচেতনতা আশা করা হচ্ছে। প্রিয় সুনামগঞ্জবাসীকেও আহ্বান করা হচ্ছে যেকোন দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে অসাধু ব্যক্তিদের কথায় প্ররোচিত না হয়ে সচেতনভাবে দ্রব্যের মূল্য, উৎপাদন তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নিরীক্ষা করে ক্রয়ের জন্য।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত