শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০

হাওড়ের ধান কাটতে চট্টগ্রাম থেকে শ্রমিক পাঠাচ্ছে পুলিশ

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের সংগ্রহ করে হাওড় এলাকায় ধান কাটার জন্য পাঠাচ্ছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এই কার্যক্রম শুরু করেছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ ‘এস আলম’।

রোববার (১৯ এপ্রিল) পাঁচটি বাসে করে ১০০ জন শ্রমিককে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওড় অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের নির্দেশে পুলিশ সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল।

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘নগরীর বাকলিয়ায় বিভিন্ন বস্তি ও কলোনিতে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ধান কাটায় আগ্রহীদের স্থানীয় থানার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমদিন আমরা ১০০ জনকে কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে পাঠিয়েছি। দেশের অনেক এলাকায় এখন কাজ আছে। কিন্তু কাজ করার মানুষ নেই। আবার কিছু এলাকায় কাজ নেই, কিন্তু বেকার মানুষ আছে। পাকা ধানকাটার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের ক্রাইসিস তৈরি না হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সেটা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি। কোনো ধরনের ফুড ক্রাইসিস যাতে দেখা না দেয়, সেজন্য এবার ধানকাটা নিয়ে প্রশাসন খুবই সতর্ক অবস্থায় আছে।’

সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, ৪০ আসনের প্রতিটি বাসে সামাজিক দূরত্ব মেনে ২০ জনকে বসানো হয়েছে। তাদের গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক বাসে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জে পাঠানোর আগে প্রত্যেক শ্রমিকের শরীরের তাপমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যাদের তাপমাত্রা বেশি, তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া শ্রমিকদের চলতিপথের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারও দেওয়া হয়েছে।

এডিসি রউফ আরও জানান, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পৌঁছার পর ওই জেলার পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় থানার ওসি তাদের গ্রহণ করবেন। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আলাদা-আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা ১৪ দিন কোয়ারেনটাইনে থাকবেন। এরপর ধান কাটায় যোগ দেবেন। সেখানে তাদের থাকা-খাওয়ার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধান করা হবে।

রোববার তাদের ভাড়া করা পাঁচটি বাসে করে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সোমবার থেকে এস আলম গ্রুপ শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ৪০টি করে বাস দেবে। সিএমপির তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এস আলমের দেওয়া বাসে করে শ্রমিকরা যাবেন কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ আরও বিভিন্ন এলাকায়।

‘সিএমপির প্রত্যেক থানাকে কমিশনার স্যার বলেছেন, নিম্ন আয়ের লোকজনের কাছে বার্তা পৌঁছাতে। কেউ যদি ধান কাটতে যেতে উৎসাহী হন, তাহলে যেন স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেন। এরপর সিএমপির তত্ত্বাবধানে তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হবে।’- বলেন এডিসি রউফ।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত