রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকের জন্য বদনাম পুরো খাতে

হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ব্যাংকের বড় কেলেঙ্কারির জন্য পুরো ব্যাংকিং খাতকে বদনামের তকমা নিয়ে চলতে হচ্ছে। কিছু ব্যাংকের কারণে খেলাপি ঋণ রয়েছে উচ্চ মাত্রায়। এসব কারণে আমানত পেতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে ব্যাংকারদের। ঋণ নিতে অনেক বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফারমার্স ব্যাংক এবং কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারার ঘটনায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কার্যরত ৫৮টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা ঋণের যা ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

অধিকাংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এক অঙ্কের নিচে থাকলেও ১২টি ব্যাংকের প্রভাবে সামগ্রিক খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কে উঠেছে। এ তালিকায় রয়েছে সরকারি মালিকানার আটটি, বেসরকারি খাতের ফারমার্স, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামী ও বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। ব্যাংক খাতের বড় অনিয়মের বেশিরভাগই ঘটেছে এসব ব্যাংকে। এই ১২ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা।

ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের যা ৭৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর এসব ব্যাংকের বিতরণ করা এক লাখ ৯৬ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণের ৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাকি ৪৬ ব্যাংকে মোট ঋণ রয়েছে সাত লাখ ১৪ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের ২৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মাত্র ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১২টি ব্যাংক বাদ দিয়ে খেলাপি ঋণ হিসাব করলে পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। তাতে মূলধন পরিস্থিতি বর্তমানের চেয়ে ভালো হবে।

আবার তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমে সুদহার নিম্নমুখী ধারায় আসবে। ব্যাংক খাতের সূচক যত ভালো হবে, গ্রাহকের এলসি খরচ তত কমবে। তখন আর এলসির জন্য বাড়তি কনফারমেশন চার্জ লাগবে না, যার প্রভাবে কমবে আমদানি ব্যয়ও।

ঋণ অনিয়মের কারণে সম্প্রতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়েছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির ১৭ হাজার ২২৫ কোটি টাকার ঋণ এখন খেলাপি। এক বছর আগেও ব্যাংকটির মাত্র পাঁচ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি ছিল। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্রিসেন্ট ও এননটেক্স গ্রুপকে দেওয়া প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আর ফেরত না আসায় বেকায়দায় পড়েছে ব্যাংকটি।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকটির সার্বিক সূচকের অবনতি হয়েছে। এর আগে গ্রাহকের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পেরে আলোচনায় ছিল ফারমার্স থেকে পদ্মা নামে রূপান্তরিত ব্যাংকটি। এ ব্যাংকের পাঁচ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা ঋণের ৬০ শতাংশ এখন খেলাপি। ব্যাংকটি বাঁচাতে সম্প্রতি বাধ্য হয়ে সরকারি চার ব্যাংক ও আইসিবি ৭১৫ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। এরপরও প্রচুর লোক আমানত তুলে নেওয়ায় গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে তিন হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময় শেষে যেখানে ঋণ রয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত