সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

হাসান হামিদের কবিতা

হাসান হামিদ

কিছুকাল ভালোবেসে তারপর

ভালোবেসেবেসে আমিই তোমাকে মাথায় তুলেছিলাম ।
ভালোবাসার কোন স্বাদ-গন্ধ তোমার জানা ছিল না;
তুমি স্বপ্ন দেখতেও বড্ড আনাড়ি ছিলে,
অভিমানের কড়া পাহারায় ছিটকে পরা
অশুভ কান্নার স্বভাব ছিলো তোমার –
আর নাকের উঠোনে ছিলো
প্রাগৈতিহাসিক পৌরুষের পরিত্যাক্ত ঘ্রাণ ।

তুমি ছিলে অশ্লীলতার ড্রেনে পড়ে থেঁতলে যাওয়া মাকড়সা,
ছিলে পাপের গলিতে পচা-বাসি খাবারে উড়ন্ত মাছির মতোন;
আমাকে ভালোবাসার আগে কখনোই
তোমার ভোরের চৌকাঠে অঞ্জলী দিতো না কবিতা ।
আমার ভালোবাসা পেয়ে
কিশোরী বয়সেই পরিপূর্ণ নারীর মতোন
বুকের উনুনে শুকাতে শিখেছিলে ক্ষরণ;
শিখেছিলে ভালো থাকার সাত-পাঁচ হিসাব আর
মিতালী স্নেহের স্বপক্ষে থেকে বীজবুননের কলা-কৌশল ।

তোমার সৌন্দর্য জ্ঞান ছিলো না ।
এখনকার মতো চমৎকার জীবনবোধ ছিলো না ।
বিসর্গের যে বিন্দুতে দুঃখ থাকে, সেই বন্দরে
অবস্থান ছিলো তোমার, তুমি মোটেই জানতে না
অস্থায়ী অনুকূলের নৈর্ব্যক্তিক রূপায়ণ;
ক্যামোফ্লেজে লুকিয়ে রেখেছিলে কিছু সবিনয় শোক-সন্তাপ ।

আমিই বাল্যশিক্ষার মতো মুখে মুখে পড়িয়ে
তোমায় সব মুখস্ত করিয়েছি-
শিখিয়েছি নিঃশ্বাসের তারায় আগুন জ্বালানো-নেভানো;
আর আমার ভালোবাসা পেয়ে
তরতরি বেড়ে উঠেছিলে তুমি ।
তোমার সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে
টপকাতে পেরেছিলে অসংলগ্নতার সীমানা পাঁচিল ।
দাঁড়াতে পেরেছিলে সফেদ নখাগ্র হতে
দয়িতের গ্রীবা বরাবর ।

তারপর আমার ভালোবাসার জৈব সারে বেড়ে
বৃক্ষ বনে যাওয়া তুমি দুপায়ে দ্বীধাহীন দলে গেছো ঘাসের চিবুক,
নতুন কেনা শার্টে বিচিত্র কোন দাগ দেখে
কপাল কুচকানোর মতো আমিও তোমার
অপ্রত্যাশিত-অনাকাংখিত প্ররোচনায় অস্থির—
হয়তো আমি কালি শেষ হওয়া দোয়াতের মতোই পরিত্যক্ত ।
অথচ ভালোবেসে আমিই মাথায় তুলেছিলাম তোমাকে;
আমার বিপ্রতীপ প্রশ্ন আর তস্কর স্মৃতির আঙুল ধরেই
জীবন ভূমিতে সফলভাবে হাঁটতে শিখেছিলে ।
হায়রে নিয়তি !


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত