সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

হাসান হামিদ-এর কবিতা : জন্মদিনের কবিতা

আমার জন্মের দিন
বাতাস বয়েছিলো সভ্যতার সমান্তরাল হয়ে
এক ফোঁটা পানির কাতরে উড়ছিলো একটি দাঁড়কাক।
শঙ্খনীল পরিবারের হাড় হতে খুলে ফেলে গরম চাকু
তছনছ করে আখরুটের বন, দাঁড়ালাম;
স্রোত আর সাঁকোর সমারোহে!
আমি অবাক হয়ে তাকালাম।
আমার কাঠবেড়ালি মন
খুব ছোট আমার চোখ, চোখের পাতা,
ছোট আমার হাত, হাতের আঙুল।
ধরলাম পৃথিবীর বাড়ানো লোভী হাতটি
এবং প্রথম বারের মতোন ডুব দিলাম
পৃথিবী নামক পাপের গলির ড্রেনটিতে
অনিদ্র রাতের প্রহরে
নাক্ষত্রিক চৈতন্য রমন করে বোধে
জর্জরিত এক মস্তিষ্ক নিয়ে নেমে আসলাম।
সবাই ভেবেছিলো, ট্যারা হবো, হলাম না।
আমার জন্মের দিন
কোনো ঝড় বৃষ্টির চিহ্ন ছিলো না
উষ্ণতায় ভরা ছিলো বাতাসের পেটখানি
তবুও কেনো জানি মগজ গলেনি স্নেহের মাংসল রোদে
বাবা ঘরেই ছিলন
পুত্রের চিৎকার শুনে বেরিয়ে এলেন
বাড়িয়ে দিলেন বাহু, আমি হাসলাম।
আর তারপর থেকেই এই গ্রহকে ভালোবেসে
কিছু বিষন্ন কথা, কিছু গুছানো হতাশা
হাতে গোণা মেরুন রঙের কষ্টগুলো আমার দখলে এলো
আর আমি হয়ে গেলাম জীবন কাঙাল।
বিধাতার সাথে কথা ছিলো বাঁধনে জড়াবো না কোনোদিন
আমার জীবন হবে যাপন ছাড়া, নির্লিপ্ত;
অথচ কতো জায়গায় বুঝে শুনে আটকে গেছি অযথা মায়ায়, আহা !
আজ জন্মের আটাশ বছর পর-
আমার জন্মদিনের মতোই বাতাস বয়ে চলেছে সত্যের সমান্তরালে ।


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.