সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

হাসান হামিদ-এর কবিতা : সন্ধ্যাবেলার এক্সরে রিপোর্ট

সেদিন রাত্রিতে তোমাকে দেখলাম অভিমানী ক্যাকটাস।
টেবিলের এক পাশে আমি, অন্যপাশের–
একটা সমিল চেয়ারে তুমি বসে,
উজ্জ্বল হাত দু’টি দেখলাম, নৈসর্গের চিত্রপট;
বড়বড় চোখে দ্বিধা ও সংশয় ছিলো।
দিনভর চঞ্চলতার সিঁড়ি বাওয়া উপাস্য দু’চোখে
তাকাচ্ছিলে বারবার, দেখলাম;
সাপের লালাকে কেমন পোষ মানিয়েছো পাখির মতোন।
তোমার চোখে এমন কিছু আছে যা পৃথিবীর
আর কারো চোখে নেই—
কার চোখে আর এতোখানি মায়া? এতো প্ররোচনা?
সম্ভাব্য বিভেদ পেরিয়ে মনে মনে মন্থর পার্থক্যে
তোমার প্রশংসা করলাম, পক্ষপাতিত্ব করলাম।
তুমি কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে দিলে।
তুমি চুপ থেকেও আমার সমস্ত সত্তাকে বুঝালে।
তুমি কি তবে আমার ভিতরের ঝড়কে দেখেছিলে?
খুব ইচ্ছে করছিলো— তোমাকে একটু ধরি,
তোমার কোল ঘেঁষে বসি;
তোমাকে অর্ধেক লেখা একটা কবিতা শোনাই
এবং চিৎকার করে আমার ভালোবাসা আর
স্বপ্নের সব কথা বলি।
ইচ্ছে হচ্ছিলো তোমাকে বলে দেই,
তোমাকে দেখলেই কেমন রোগার্ত স্বপ্নের ন্যায়
গুলিয়ে ফেলি বাঘ আর হরিণের ব্যবধান।
বলে দেই তোমাকে দেখলেই
মুড়ির টিনের মতো মচমচে শরীরে ক্ষত হয়ে বিক্ষত উত্তাপে।
আর মাংসের ভিতরে শুয়ে থাকা কংকালও
তা কেমন করে টের পায়।
অথচ আমিও তোমার মতোই চুপ ছিলাম।
পারিবারিক এটা ওটা নিয়ে আলোচনা করি অন্যদের সাথে;
আর মহৎ দ্বিধাবোধ পড়ে থাকে পরিত্যক্ত ঝুড়িতে ,
স্বপ্নের বয়স খামোকাই বেড়ে চলে।
অবশেষে আম চঞ্চল হই চলে আসতে।
আসবার সময় তুমি দৌড়ে এসে দাঁড়িয়েছিলে
জানালার গ্রীল ধরে, তোমার লকলকে আঙুল দেখলাম,
আবছা আলোয় তোমার মায়াবী মুখটা অস্পষ্ট;
তবুও বুকের ধুকধপুকানি আর কমবয়েসী তোমার হৃদয়
আমার হাত টেনে ধরছিলো;
যেন বলছিলো বারবার, ‘যেও না, আর একটু থাকো’।


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.