মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

২০১৮ সালে পরিবহন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৭৯৬ জনের

গত বছর বাংলাদেশে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮টি। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৯৬ জন। আহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮০।

এসব তথ্য বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৮’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

এ বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ২০১৮ সালের পাঁচ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ২২১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রেলপথের ৩৭০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন, নৌপথের ১৫৯টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১২৬ এবং আকাশপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫৫ জন।

অন্যদিকে, ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহতদের মধ্যে ১২৫২ জন চালক-শ্রমিক, ৮৮০ জন শিক্ষার্থী, ৩২১ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৭৮৭ জন নারী, ৪৮৭ জন শিশু, ১০৬ জন শিক্ষক, ৪৩ জন সাংবাদিক, ৩৩ জন চিকিৎসক, ৯ জন প্রকৌশলী, ২ আইনজীবী, ১৯২ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী রয়েছেন।

যাত্রীকল্যাণ মহাসচিব জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭ হাজার ৩৫০টি যানবাহনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এসব যানবাহনের মধ্যে ১৮.৯২ শতাংশ বাস, ২৮.৬৮ শতাংশ ট্রাক ও কাভ্যার্ডভ্যান, ৭.৯৩ শতাংশ কার জিপ ও মাইক্রোবাস, ৯.৬১ শতাংশ অটোরিকশা, ২৫.৩০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৩.৭২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৫.৮০ শতাংশই ছিল নছিমন, করিমন ও হিউম্যান হলার।

তিনি আরও জানান, এসব দুর্ঘটনাগুলো ৪১.৫৩ শতাংশ গাড়ি চাপায়, ২৯.৭২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৬.১৮ শতাংশ খাদে পড়ে, ০.৫৫ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৮৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, ‘বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, রেল ক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা সহ আরও বেশ কয়েকটি কারণে এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।’


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত