সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

২৫ মার্চ, ১৯৭১ : কখন কী ঘটেছিল?

হাসান হামিদ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। পাকিস্তানি জেনারেল ইয়াহিয়া খান সেদিন গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। এর দশ দিন আগে তিনি এসেছিলেন।

সন্ধ্যা ৬ টা
সেদিন সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ইয়াহিয়া খানের গাড়ি স্টাফ হাউসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো।
অন্ধকার নামতেই সেই বহর আবার ফেরত গিয়েছিল প্রেসিডেন্ট হাউসের দিকে। কিন্তু সেই বহরে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ছিলেন না। গাড়িতে তার জায়গায় বসেছিলেন ব্রিগেডিয়ার রফিক। পাকিস্তানি শাসকরা ভেবেছিল যে, সবাইকে বুঝি ধোঁকা দেওয়া গেছে।

সন্ধ্যা ৭ টা
সেই সময়ের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিক তার বই ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ এ লিখেছেন: “মুজিবের গোয়েন্দারা গোটা খেলাটা বুঝে গিয়েছিলেন। ইয়াহিয়া খানের নিরাপত্তা টিমে কর্মরত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ আর চৌধুরী দেখে ফেলেছিলেন যে, একটা ডজ গাড়িতে ইয়াহিয়া খানের মালপত্র বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। তিনি সেটা শেখ মুজিবের কাছে জানিয়ে দিয়েছিলেন। সন্ধ্যে সাতটার সময়ে ইয়াহিয়া খান যখন বিমানে চড়ার জন্য এয়ারফোর্স গেট দিয়ে ঢুকছেন, তখন নিজের দপ্তরে বসে গোটা দৃশ্যটা দেখছিলেন উইং কমান্ডার এ কে খন্দকার। ফোন করে শেখ মুজিবকে খবরটা জানিয়ে দেন তিনি।”

মি. সালিক আরও লিখেছেন, “ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে এক বিদেশী সাংবাদিক আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন যে ইয়াহিয়া খান ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন, এই খবরটা আমি নিশ্চিত করতে পারি কী না!”

লিখেছেন, “শেখ মুজিব আর ইয়াহিয়া খানের মধ্যে আলোচনার কী পরিণাম হয়, তা নিয়েই ওইদিন দুপুরে মেজর জেনারেল খাদিম হুসেইন নিজের দপ্তরে বসে ভাবছিলেন। হঠাৎই সামনে রাখা টেলিফোনটা বেজে উঠেছিল। লাইনের অন্য দিকে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান।
সরাসরি বলেছিলেন, খাদিম, আজই করতে হবে কাজটা। খাদিম এই নির্দেশের জন্যেই অপেক্ষাই করছিলেন। নিজের কর্মচারীদের সঙ্গে সঙ্গেই ওই আদেশ পালনের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।”

সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, “আমি দেখছিলাম ২৯ ক্যাভালরির রেঞ্জাররা রংপুর থেকে আনানো পুরনো এম-২৪ ট্যাঙ্কগুলো অয়েলিং করছিল। ক্র্যাকডাউনের সময় ঠিক করা হয়েছিল ২৬শে মার্চ রাত একটায়। আশা করা হচ্ছিল যে ততক্ষণে ইয়াহিয়া খান করাচীতে পৌঁছে যাবেন।”

সিডনী শনবার্গের রিপোর্ট ২৯ মার্চ, নিউইয়র্ক টাইমস থেকে যেটা জানা যায় দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বাঙালী বিহারীর সংঘর্ষ হয় এবং শেখ মুজিব ১টি বিবৃতিতে এর নিন্দা জানান।

রাত ৮টা থেকে ৮:৩০ টা
এরকম একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এইচ এম কামরুজ্জামান , ক্যাপ্টেন মনসুর আলী , তাজউদ্দীন আহমদ এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম শেখ মুজিবের সাথে দেখা করে চলে যান।
শেখ ফজলুল হক মনি ২৫ শে মার্চ সন্ধ্যায়ই টুংগীপাড়া চলে যায় এবং শেখ কামাল রাত ৯টায় ধানমন্ডী ৩২নং ছেড়ে যান। [সূত্র : শেখ মুজিব, এস.এ. করিম, ইউপিএল, ২০০৫, পৃষ্ঠা ১৯৫]

রাত ৮:৩০ থেকে ৯ টা
শেখ মুজিবের সাথে দেখা করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে বেরিয়ে আসেন ঢাকা ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ শাহজাহান। [মঈনুল আলমের কলাম, ২৫ মার্চ ২০১০, ইত্তেফাক]

রাত ৯টা থেকে ৯:৩০ টা
ডঃ কামাল হোসেন এবং ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলাম ৩২নং থেকে বিদায় নেন। অজয় রায়ের স্বাধীনতার ঘোষনা বিষয়ক আর্টিকল থেকে যেটা জানা যায় রাত ৯:০০ টায় সাইমন ড্রিং শেখ মুজিবকে ফোন করেছিলেন। ঠিক এই সময়েই প্রথমবারের মত গোলাগুলির শব্দ শুনা যায়। [সোর্স: ৩১ মার্চ ১৯৭১, ডেইলী টেলিগ্রাফ]

রাত ১০ টা – ১০:৩০ টা
ঠিক এই সময়টাতেই শেখ মুজিবের সাথে দেখা করেন নঈম গহর। কেননা শেখ মুজিবের সাথে দেখা করে তিনি এম.আর. সিদ্দীকীর সাথে ফোনে কথা বলেন এবং কথা বলা শেষ হলে দেখেন রাত প্রায় ১১: ০০ [নঈম গহরের কলাম, ২৫ মার্চ, ২০১০, দৈনিক সমকাল]

রাত ১০:৩০ টা
ইস্ট পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের এম.ডি. ক্যাপ্টেন রহমান এবং ২ জন এক্স নেভাল অফিসার কমান্ডার ফারুক এবং লে. মতিউর রহমান শেখ মুজিবের সাথে দেখা করতে আসেন। এ সময় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রধান আব্দুর রাজ্জাক এর ১টি ফোন আসে শেখ মুজিবের কাছে এবং “ইপিআর কে ডিসার্মড করা হয়েছে” শেখ মুজিব কে এতটুকু বলতে না বলতে লাইন কেটে যায়। [সূত্র: শেখ মুজিবের বাসভবনে সে সময় অবস্থানরত পারিবারিক কর্মচারী মমিনুল হক খোকা, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪৪৭-৪৮]

রাত ১১:০০ টা

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রধান আব্দুর রাজ্জাক শেখ মুজিবের সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে আত্মগোপন করার অনুরোধ জানালে, শেখ মুজিব তাকে জানান তিনি বাসা ছেড়ে যাবেননা , মরতে হলে সেখানেই মরবেন।
[সূত্র: আর্চার ব্লাড, দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ, ইউপিএল, ২০০৬, পৃষ্ঠা ১৯৮]

রাত ১১:০০ টা
সিরাজুল আলম খান , আ.স.ম আব্দুর রব , শাহজাহান সিরাজের শেখ মুজিবের সাথে দেখা করে ধানমন্ডী ৩২নং ত্যাগ করেন। ওয়াজেদ মিয়ার বক্তব্য অনুসারে এটাই ছিলো শেখ মুজিবের সাথে কারো ঐ রাতে শেষ বৈঠক। এই সময়টাতে শেখ মুজিবের বাসায় একটি ফোন কল আসে যেটির বর্ণনা দিয়েছেন হাজী গোলাম মোরশেদ :
“রাত ১১ টায় বলধা গার্ডেন থেকে ১টা ফোন এলো। বললো: রেডিও মেসেজ প্রচার হয়ে গেছে ।”
[হাজী গোলাম মোর্শেদের বক্তব্য, দৈনিক পূর্বদেশ, স্বাধীনতা সংখ্যা, ১৯৯০]

রাত ১১. ৩০ টা থেকে ১২:০০ টা
২৫ তারিখ রাত প্রায় সাড়ে এগারোটার সময় ঢাকার স্থানীয় কমান্ডার টিক্কা খানের কাছে অনুমোদন চেয়েছিলেন ক্র্যাকডাউনের সময়টা এগিয়ে আনার। এরকম খবর আসছিল যে ওরা ব্যাপক প্রতিরোধের জন্য তৈরি হচ্ছে।

সালিক লিখছেন, “সকলেই ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাষ্ট্রপতি তখন সম্ভবত কলম্বো আর করাচীর মাঝামাঝি। জেনারেল টিক্কা আদেশ দিলেন ববিকে বলো যতটা সম্ভব দেরি করতে।রাত সাড়ে এগারোটায় পুরো শহরের ওপরে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা করেছিল। অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়েছিল।”

সৈয়দ বদরুল আহসান নিজের বই ‘ফ্রম রেবেল টু ফাউন্ডিং ফাদার’ গ্রন্থে লিখেছেন, “শেখ মুজিবের বড় মেয়ে হাসিনা জানিয়েছিলেন যে গুলির আওয়াজ শুরু হতেই মুজিবুর রহমান ওয়ারলেসের মাধ্যমে খবর পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেন।”

“সেদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শেখ মুজিবের বাসায় ছিলো মানুষের ঢল। কিন্তু ইয়াহিয়ার ঢাকাত্যাগের খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় এবং সেনাবাহিনীর মতিগতি দেখে সন্ধ্যার পর থেকেই ঢাকার সর্বত্র বাড়তে থাকে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। এ পরিস্থিতিতে শেখ মুজিব এক বিবৃতিতে বিভিন্নস্থানে সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষনের প্রতিবাদে হরতাল আহ্বান করেন।”
[সূত্র: শেখ মুজিব, জীবন ও রাজনীতি, ১ম খন্ড, বাংলা একাডেমী ২০০৮, পৃষ্ঠা: ৪৪৭]

রাত ১:০০ টা
রাত ১ টায় অপারেশন সার্চলাইট শুরু করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মত পাক আর্মির ১ম দলটি ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে ফার্মগেটের নিকট ব্যারিকেডের সম্মুখীন হয়।
[সূ্ত্র : উইটনেস টু সারেন্ডার , সিদ্দিক সালিক , ইউপিএল , ১৯৭৭ , পৃষ্ঠা ৭৩]

রাত ১ টা থেকে ১:৩০ টা
ঠিক এই সময়টাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে অপারেশন বিগবার্ডের ইনচার্জ জহিরুল আলম খান নিজেই বই লিখেছেন: দ্য ওয়ে ইট ওয়াজ।

অপারেশন বিগবার্ড বিষয়ে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জহিরুল আলম খান লিখেছেন,
”তল্লাশী চালানোর জন্য এরপর একটি দল ঢুকলো। প্রহরীদের একজনকে বলা হলো রাস্তা দেখাতে। কিছুদূর যাওয়ার পর পাশে থাকা সৈন্যকে দা দিয়ে আক্রমণ করতে গিয়েছিলো সে, কিন্তু জানতো না তার উপর নজর রাখা হচ্ছে। তাকে গুলি করে আহত করা হয়। এরপর সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠলো সার্চপার্টি। একের পর এক দরজা খুলে কাউকে পাওয়া গেলো না। একটা রুম ভেতর থেকে আটকানো ছিলো। ওপরে ওঠার পর কে যেন আমাকে বললো বদ্ধ ঘর থেকে কেমন অদ্ভুত শব্দ আসছে (সম্ভবত ওয়ারল্যাস ট্রান্সমিশন করছিলেন মুজিব)। মেজর বিল্লালকে বললাম দরজা ভাঙতে। আর আমি নীচে নামলাম ক্যাপ্টেন সাঈদের দল এলো কিনা দেখতে।

সাঈদের সঙ্গে কথা বলার সময় একটা গুলির শব্দ হলো। এরপর গ্রেনেড বিস্ফোরন ও তার সাথে সাব-মেশিনগানের ব্রাশ। ভাবলাম কেউ হয়তো শেখ মুজিবকে মেরে ফেলেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি সেই বদ্ধ রুমের দরজায় দাড়িয়ে মুজিব।

পরে জানতে পারলাম, মেজর বিল্লালের লোকেরা যখন দরজা ভাঙার চেষ্টা করছিলো তখন কেউ একজন সেদিকে পিস্তলের গুলি ছোড়ে। ভাগ্যক্রমে কারো গায়ে তা লাগেনি। বাধা দেয়ার আগেই বারান্দার যেদিক থেকে গুলি এসেছিলো সেদিকে গ্রেনেড ছোড়ে একজন সৈনিক। এরপর সাবমেশিনগান চালায়। গ্রেনেডের প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির আওয়াজে বদ্ধ সেই রুমের ভেতর থেকে সাড়া দেন শেখ মুজিব এবং বেরিয়ে আসেন তিনি।

শেখ মুজিবকে বললাম আমার সঙ্গে আসতে। উনি জানতে চাইলেন পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিতে পারবেন কিনা। আমি তাকে তা জলদি সারতে বললাম। এরপর গাড়ির দিকে হাটা ধরলাম। এরমধ্যে সদরে রেডিও বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি যে আমরা শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করেছি। (বিগবার্ড ইন কেইজ)। মুজিব এবার বললেন ভুলে পাইপ ফেলে এসেছেন তিনি। আমাকে নিয়ে পাইপ আনতে গেলেন আবার। এরমধ্যে মুজিব আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। টের পেয়ে গেছেন তার কোনো ক্ষতি করা হবে না। বললেন, তাকে ফোন করে বললে তিনি নিজেই চলে আসতেন।”
-বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জহিরুল আলম, ইনচার্জ – অপারেশন বিগবার্ড
[ সুত্র: দ্য ওয়ে ইট ওয়াজ, অপারেশন বিগবার্ড, ২৫ মার্চ]

সিদ্দিক সালিক লিখছেন, “ওই রাতে মুজিবের সঙ্গে থাকা সব পুরুষ মানুষদের আমরা গ্রেপ্তার করে এনেছিলাম। পরে চাকরবাকরদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আদমজী স্কুলে সবাইকে ওই রাতে রাখা হয়েছিল। পরের দিন ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনদিন পরে করাচী নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমার বন্ধু মেজর বিলালের কাছে জানতে চেয়েছিলাম গ্রেপ্তার করার সময়েই মুজিবকে খতম করে দিলে না কেন? বিলাল বলেছিল জেনারেল টিক্কা খান ব্যক্তিগতভাবে ওকে বলেছিলেন যে কোনও উপায়ে শেখ মুজিবকে জীবিত গ্রেপ্তার করতে হবে।”

চারটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পাকিস্তানি সেনারা দখল করে নিয়েছিল। কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদী ভাবনাকে পাকিস্তানি সেনারা দখল করতে পারে নি। সকালে ভুট্টোকে ঢাকায় তার হোটেল থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিমানে চড়ার আগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন, “ধন্যবাদ, পাকিস্তান বেঁচে গেল।”

পরের দিন সকালে সিদ্দিক সালিক ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবের বাসভবনে গিয়েছিলেন তল্লাশি চালাতে। কিছুই পাওয়া যায় নি সেখানে শুধু রবীন্দ্রনাথের একটা ফ্রেমে বাঁধানো ছবি ছাড়া। ফ্রেমের কাঁচটা বেশ কয়েক জায়গায় ভেঙে গিয়েছিল, কিন্তু ছবিটা একদম ঠিক ছিল। ওদিকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পরে শেখ মুজিবকে মিয়াওয়ালী জেলের এক সেলে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। রেডিও তো দূরের কথা খবরের কাগজও দেওয়া হত না তাকে।

সেদিন রাতেই ঢাকায় ইতিহাসে জঘন্যতম গণহত্যা চালালো। যখন সাধারণ শান্তিপ্রিয় বাঙালি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন তাদের ওপর জলপাই রঙের ট্যাংক উঠিয়ে দেয়া হলো। স্টেন গান, কাটা রাইফেল আর গোলার আঘাতে পুরো শহর বদ্ধভূমিতে পরিণত করলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের উর্দিপরা জেনারেলরা এদেশের নিরীহ বাঙালিকে প্রাণে মেরে ফেলে তুমুল উৎপীড়নে ফেটে পড়েছিল। ভয়ার্ত মানুষেরা সহায়-সম্বল আত্মীয়-আপনজনকে হারিয়ে প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটেছিলো। কিন্তু পিস্তলের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আবার তারা রাস্তায় নুয়ে পড়েছিল। সে সময় কেউই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি। ২৫ মার্চের সে ভয়াল রাতে পুরো ঢাকা শহর যেন এক মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল।

> আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিয়ের গল্প


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত