
বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পেনশনের কাগজপত্র নিয়ে ভয়াবহ অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে। ওই কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক পেনশনের টাকা তুলতে প্রয়োজনীয় কাগজ ঠিক করতে গেলে বিপাকে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, একই অফিসে কর্মরত অফিস সহকারী শাহ আলম তাঁর কাছে ফাইল এগিয়ে দেওয়ার নাম করে মোট ৯০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।
আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক বাধ্য হয়ে প্রথম দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে কিছু টাকা দেন। এরপরও শাহ আলম থামেননি। তিনি আরও টাকা দাবি করতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেন। পেনশনের টাকা না পেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে—এই অবস্থায় ভুক্তভোগী বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার সকালে বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় ঘুষের টাকা নেওয়ার মুহূর্তে শাহ আলমকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর ব্যবহৃত ড্রয়ার থেকে ঘুষের টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানান, শাহ আলম সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেনশনের ফাইল আটকে রেখে তিনি বারবার টাকা দাবি করেন, যা সরাসরি ঘুষ ও দুর্নীতির শামিল। সরকারি সেবার বিনিময়ে টাকা নেওয়া, জোর করে অর্থ আদায় এবং দায়িত্বে অবহেলা—এই সব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, সরকারি দপ্তরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের পথকে কতটা কঠিন করে তুলছে। পেনশনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ঘুষ চাওয়ার ঘটনা প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।

