
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বদলি বাণিজ্য এবং ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ ও নথি অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–২–এ দায়িত্ব পালনকালে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহর মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের একাধিক কাজ পাইয়ে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওপেন টেন্ডার মেথডে নিয়ম ভেঙে কাজ দেওয়া হলেও অনেক প্রকল্প শেষ না হতেই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব কাজের আইডি নম্বর হিসেবে উঠে এসেছে 997828, 997827, 997826, 997825, 995647, 994880, 994647, 994646, 994817 ও 994818। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্প তদন্ত হলে ‘ওটিএম কেলেঙ্কারি’র মতো বড় অনিয়ম সামনে আসতে পারে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, গত এক দশক ধরে টেন্ডার বাণিজ্য ও বদলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য এলটিএম বাদ দিয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। ওই দরপত্রগুলোর আইডি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে 1056148, 1057945, 1056137, 1056138, 1056145, 1057947, 1057196, 1056073, 1057101 ও 1018075।
এছাড়াও আরবরিকালচার বিভাগে ভুয়া ফুল ও গাছ রোপণের বিল, গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং বানোয়াট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, তার অনুসারী কিছু কর্মকর্তা এসব ভুয়া ভাউচার প্রস্তুত ও বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন।
সূত্র আরও দাবি করছে, ঢাকার এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে কিংবা ঢাকার বাইরে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে মনিরুল ইসলাম একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। বদলি হলেও নানা কৌশলে তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে সরকারি অর্থ লুটপাটের একটি বড় সিন্ডিকেট প্রকাশ পেতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি বা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

