আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে হস্তক্ষেপে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, আন্দোলন চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে স্পষ্ট ঐকমত্য নেই। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা জোরদার, সাইবার কার্যক্রম এবং সীমিত সামরিক হামলার বিষয় আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী সচিব মার্ক কিমিট বলেন, ইরান বিষয়ে ট্রাম্প ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে মনে হচ্ছে।
তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালাবে, এমন আশঙ্কা কম। বরং সীমিত পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান হতে পারে।
কিমিট বলেন, এসব অভিযানে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ নেতারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। এর মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান কিংবা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ নেতৃত্ব থাকতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২০ সালের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই বছরের ৩ জানুয়ারি ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।
কিমিটের ভাষায়, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান এমন পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে, যা সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নতুন ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
ফোন নাম্বারঃ+880 1819044472