
বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আইনগত উদ্যোগ নেয়নি। অভিযোগ প্রকাশের পরও এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, আইআরআইডিপি-০৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খান তার স্ত্রী পারভীন আক্তার শিউলীর নামে ৩১ লাখ টাকার বেশি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন এবং লালমাটিয়ার বুলবুলিকা ভবনে প্রায় ৬ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাটসহ ঢাকার গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বরিশালে একাধিক সম্পত্তি সংগ্রহ করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে না পারা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগই এখন তদন্তের দাবি তুলছে।
আইন অনুযায়ী এমন অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কোনো ধারা কার্যকর করা হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অন্তত সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা উচিত ছিল। বিশেষ করে যখন দুদক ইতিমধ্যে এলজিইডির বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত করছে।
তবে অভিযোগ প্রকাশের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মহাপরিচালক, সচিব বা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেননি এবং তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেননি। এমনকি প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে রুহুল আমিন খানকে পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্তও হয়নি।
জনস্বার্থে এই অভিযোগগুলো তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা। জনগণের করের টাকা দিয়ে পরিচালিত প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করা হলে তা দুর্নীতিবাজদের আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা মনে করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রুহুল আমিন খান বা তদন্ত গ্রহণকারী কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রকাশনায় জানানো হবে।

