আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতীকী ছবিতে পাথর নিক্ষেপ করেছেন হাজার হাজার শোকাতুর জনতা।
আজ সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সংবাদ সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ইসলামের পবিত্র হজব্রতের ‘শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ’ (রমি আল-জামারাত) আচারটির অনুকরণে ট্রাম্পের ছবিতে নুড়ি পাথর ছুড়ে নিজেদের ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন।
নিহত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ রাজধানী তেহরানের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। শোকের আবহে পুরুষ ও নারীরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের প্রজাতন্ত্রের পতাকা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছবি হাতে মিছিলে শামিল হন। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই বিশাল সমাগম থেকে বরাবরের মতোই ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগান তোলা হয় এবং মার্কিন পতাকা পোড়ানো হয়।
এরই মধ্যে জানাজা চলাকালীন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর হাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত একটি ‘ওয়ান্টেড’ বা মোস্ট ওয়ান্টেড ধাঁচের ব্যানার দেখা যায়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। ব্যানারটিতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘কিল ট্রাম্প’ (ট্রাম্পকে হত্যা করো)। একইসঙ্গে খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জীবিত অথবা মৃত এনে দিতে পারলে ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করা হয় সেখানে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে যেকোনো রাষ্ট্রীয় সমাবেশে জানাজায় আসা সাধারণ মানুষের এই ধরনের মার্কিনবিরোধী অবস্থান একটি নিয়মিত চিত্র। আজকের এই জানাজা মিছিল থেকে ট্রাম্পের পাশাপাশি তার প্রশাসনের তথাকথিত ‘যুদ্ধবাজ উপদেষ্টা’দের একটি তালিকাও জনসাধারণের মধ্যে বিলি করা হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে সেই উপদেষ্টাদেরও ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
ফোন নাম্বারঃ+880 1819044472