নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ঢাকা কাস্টমস হাউস এলাকায় চরম নিরাপত্তা শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রতিদিন কোনো ধরনের তল্লাশি ছাড়াই প্লাস্টিকের বক্স, টিফিন ক্যারিয়ার, ব্যাগ ও বস্তা এলাকায় প্রবেশ করছে, যা বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাস্টমস হাউস, কার্গো ভিলেজ, আমদানি–রপ্তানি জোন ও পার্কিং এলাকার ফুটপাতজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিফিন ক্যারিয়ার ও প্লাস্টিকের বক্স হাতে লোকজন নির্বিঘ্নে কাস্টমস এলাকায় প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে—নিয়মিত খাবার বহনের পাশাপাশি এসব বক্স ব্যবহার করে সন্দেহজনক পণ্যও আনা-নেওয়া হচ্ছে।
কাস্টমস ও কার্গো ভিলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তারা চরম উদ্বেগে আছেন। তারা দাবি করেন, বিমানবন্দর এলাকায় পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার কিছু সন্ত্রাসী চক্র এখনো সক্রিয় থাকতে পারে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, খাবারের পাত্র ব্যবহার করে যেকোনো সময় বিস্ফোরক বা ককটেল ঢুকিয়ে নাশকতার ঘটনা ঘটানো সম্ভব।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—বেবিচক হেডকোয়ার্টারের সামনে কঠোর নিরাপত্তা থাকলেও এসব বক্স প্রতিদিন কিভাবে ভেতরে প্রবেশ করছে? দেড় মাস আগে কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে কয়েক শত কোটি টাকার ক্ষতির ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এখনও বিমানবন্দর এলাকায় সুযোগ খুঁজছে। যে কোনো সময় বড় ঘটনা ঘটতে পারে।”
আইন-শৃঙ্খলা বিষয়টি জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাসলিমা আক্তার বলেন,
“সিভিল অ্যাভিয়েশন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব এপিবিএন ও বিমানবাহিনীর। আমরা আমাদের অংশে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।”
কাস্টমস এলাকায় বক্স–বাটি প্রবেশ ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা খাবারের দোকান নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান—সম্ভবত কাস্টমস হাউসের কর্মীরাই খাবারের বক্স নিয়ে আসেন, তবে দোকান বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
ফোন নাম্বারঃ+880 1819044472