
ডেস্ক নিউজঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চ আদালত থেকে পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন।
তবে কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পুলিশ তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর ফলে বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় ডা. আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪১ নম্বর এই মামলাটি ২০২৪ সালের ৩০ জুন দায়ের করেছিলেন কৃষক ওয়াজেদ আলী।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আন্দোলনের সময় চিটাগাং রোড এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নিচতলায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাংকের ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিক জ্যান্ত পুড়ে মারা যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাছুম বিল্লাহ সাবেক মেয়রের ‘সম্পৃক্ততার’ প্রাথমিক তথ্য পেয়ে আদালতে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ডা. আইভী ফতুল্লা থানায় দায়ের করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলাসহ সদর মডেল থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছিলেন।
বর্তমানে এই ৫টি মামলায় জামিন থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন এই মামলাটি তার কারামুক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি হত্যা মামলা বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার পৈত্রিক নিবাস ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন পর্যায়ক্রমে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, একের পর এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো আইনি হয়রানির শামিল। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি মামলাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

