
বিশেষ প্রতিবেদকঃ যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, একটি বিতর্কিত সংগঠন পরিকল্পিতভাবে ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখা কার্যালয়ে এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি বিতর্কিত সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছে। সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন হলেও তারা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা একটি সভা করে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিএনপি আখ্যায়িত করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করে।
নেতৃবৃন্দ জানান, নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাষ্টার অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাত এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর তিনি নিজের নেতৃত্বে নতুন সংগঠন গড়ে তুললেও তা সাধারণ শ্রমিকদের সমর্থন পায়নি।
ফেডারেশনের নেতারা আরও জানান, এর আগেও ১১ দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির সময় নওয়াপাড়ার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় ফেডারেশনের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর উল্টো ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা শ্রমিক সমাজের কাছে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইকবাল হোসেন, সাইফুল, হৃদয় ও রানা নামের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে জাহাজ থেকে মাসোহারা আদায়, মোবাইল ছিনতাই এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাষ্টারের প্ররোচনায় বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার অফিস সম্পাদক নিয়ামুল হক রিকোর ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ফেরিঘাট এলাকায় অতর্কিতভাবে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফেডারেশনের নেতারা এই হামলাকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে এবং চাঁদাবাজির পথ সুগম করতে এই হামলা চালানো হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন ও সংগঠনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সন্ত্রাস ও অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।
নওয়াপাড়া শাখার সভাপতি নূরুল হুদা মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শাখার নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনকে দমন করতে কোনো সন্ত্রাসী শক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নওয়াপাড়া নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের সামনে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে সকল নৌযান শ্রমিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

