
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী সৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-কোষাধক্ষ্য, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অন্যতম নেতা, নওয়াপাড়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা ও কার্পেটিং জুটমিল সিবিএ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী (২৪ নভেম্বর) সোমবার পালনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩টায় নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রাইট ঘাটে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা বাহারুল ইসলাম (বাহার)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিকনেতা শাহ আলম ভূঁইয়া। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা প্রকাশ দত্ত। অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক কৃষকনেতা অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষকনেতা কামরুল হক লিকু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস, নড়াইল জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষকনেতা হুমায়ুন কবির, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা সভাপতি খাদিজা পারভিন, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা দিলিপ বিশ্বাস, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন খুলনা শাখার সভাপতি শ্রমিকনেতা হাসান মুন্সি মাস্টার, সহ-সভাপতি লিটন মাস্টার, নাসির মাস্টার, বেল্লাল মাস্টার, ইমরুল ড্রাইভার, কার্যকরী সভাপতি ফারুক মাস্টার, রাশেদ মাস্টার, হাসমত মাস্টার, মঞ্জু মাস্টার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানার সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা নাজমুল হুসাইন।
বক্তারা বলেন, আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সমস্যা-সংকটের মধ্যদিয়ে চলছে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের জীবন। এ সংকট চলমান বিশ্বব্যবস্হার সংকট। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্হায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট গভীর থেকে গভীরতর হয়ে চলেছে।
২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা ১৮ বছর চলে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এ সংকটের অধীন বাংলাদেশের জাতীয় পরিস্থিতি হওয়ায় সাম্রাজ্যবাদীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত বৃদ্ধি ও তাদের প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এবং সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা অর্থনীতির লুটপাটে দেশে বিরাজ করছে গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ সামগ্রিক সংকট।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় দেশে খুনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী NDA(Non Discloser Agreement) চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দর মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত কোম্পানি (ডিপি ওয়ার্ড)-এর হাতে তুলে দেওয়ার মতো নগ্ন ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিভিন্ন সংস্কারের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও পশ্চিমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে।
অপরদিকে মার্কিনের প্রধান প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া দেশে স্বীয় অবস্থান শক্ত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিনের পক্ষে সম্পৃক্ত করতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের স্বরূপ উন্মোচন করে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় দেশে জাতীয় নির্বাচনে এক সাম্রাজ্যবাদের দালালের পরিবর্তে আরেক দালাল রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে প্রতিবারের মতো শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের কোনো লাভ হবে না।
তাই শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মুক্তি অর্জন করতে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালদের (তথাকথিত ভোট) রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে এবং শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে জন্য জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাথে সাথে প্রধান অতিথি নওয়াপাড়া বন্দরের শ্রমিকদের উত্থাপিত সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

