আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশটির মুদ্রা রিয়েলের দরপতনের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলন দেশটির ছোট ছোট শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই আন্দোলনের ১২তম দিনে বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরের বিক্রেতারাও দোকান বন্ধ করে এতে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, চলমান বিক্ষোভের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সমর্থনকে ‘হস্তক্ষেপবাদী এবং প্রতারণামূলক’ অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইরানি জনগণের প্রতি সহানুভূতি থেকে নেওয়া হয়নি। বরং সর্বোচ্চ চাপ, হুমকি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতির সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ। যেটির লক্ষ্য সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া এবং দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যা করছে তা কেবল অর্থনৈতিক যুদ্ধ নয় বরং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মিডিয়া প্রচারণা, সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং সহিংসতার প্ররোচনা।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিবিসি পারসিয়ান স্বাধীনভাবে কমপক্ষে ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরান সরকারকে বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি পারসিয়ানকে জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো ‘ইরানি জনগণের ক্ষোভকে প্রতিফলিত করে’, কারণ দেশটির সরকার জনগণকে উন্নত জীবন যাপন করতে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
ফোন নাম্বারঃ+880 1819044472