
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ–৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তার মনোনয়ন বাতিলের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। দলের ভেতরে এবং এলাকায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাবুর বিকল্প হিসেবে তিনজন নেতা আলোচনায় আসছেন। প্রথমেই রয়েছে রুহুল আমিন মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ–৮ আসনে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতি এবং আদর্শ ধরে রেখেছেন। শিক্ষকতার কারণে কিছু সময় তিনি সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজ তাকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে রাখছে।
দ্বিতীয় আলোচিত প্রার্থী হলেন নুরুল কবির শাহীন। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে ঈশ্বরগঞ্জে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখনো শক্তিশালী। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সদস্য এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা তাকে মনোনয়নের লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
তৃতীয় বিকল্প প্রার্থী হলেন কামরুজ্জামান লিটন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং আগে ময়মনসিংহ উত্তর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ফলে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশ বেশি। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তার পাশাপাশি তৃণমূলের মধ্যেও তার প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সাংগঠনিক শক্তি তাকে মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
এখন প্রশ্ন শুধু একটাই—ধানের শীষ কার হাতে উঠবে। রুহুল আমিন মাস্টারের তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা, নুরুল কবির শাহীনের অভিজ্ঞতা, নাকি কামরুজ্জামান লিটনের জনভিত্তি—দল এগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ঈশ্বরগঞ্জের মানুষও মুখিয়ে আছে, দেখার জন্য কে হবে বিএনপির শেষ ভরসা।

