
বিশেষ প্রতিবেদকঃ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন পরিচালক এম এ আখের এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাসুদ আলমকে নিয়ে নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আছে দুর্নীতি, অর্থ লেনদেনে অনিয়ম, নিয়োগে পক্ষপাত, এমনকি বিদেশে অর্থ পাচারের মতো বিষয়ও। অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি—এম এ আখের দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের হাতে আটকে রেখেছেন। শুধু প্রশাসন পরিচালক হিসেবেই থেমে থাকেননি, একই সময়ে দুইটি ভিন্ন প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টরের দায়িত্বও ধরে রেখেছিলেন, যা অনেকের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কীভাবে একজন ব্যক্তি এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে থাকতে পারেন?
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি হচ্ছে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন। ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রকল্পে দুই দফায় মোট ৪৮ কোটি টাকা মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তোলা হয়েছে—এমন দাবি করছে অভ্যন্তরীণ সূত্র। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্নীতির সন্দেহে মাসুদ আলম, তার স্ত্রী ও পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই দুদক ও বিএফআইইউ দ্বারা ফ্রিজ করা ছিল। তবুও সেই হিসাব থেকে কোটি টাকা কীভাবে তোলা হলো—এই প্রশ্নে অনেকেই বিস্মিত।
প্রকল্পের কর্মীরা জানিয়েছেন, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের সহযোগিতা ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়। তাদের ভাষায়, “হিসাব ফ্রিজ থাকা অবস্থায় টাকা তোলার ঘটনা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।”
এছাড়া তোলা টাকা কার কাছে গেছে—এই নিয়ে আরও বড় ধরনের অভিযোগ ঘোরাফেরা করছে। কিছু সূত্র বলছে, এই অর্থের একটি অংশ নাকি পলাতক সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং কারাগারে থাকা সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিনের কাছে পৌঁছেছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ এখনো কোনো তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি।
ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ আছে। এম এ আখের কখনো সরকারের এক নেতার নাম, কখনো আবার বিএনপি মহাসচিবের নাম ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন—এমন কথাও বহু কর্মকর্তা বলেছেন। এতে অধিদপ্তরের ভেতরে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
নিয়োগ, বদলি, চুক্তিভিত্তিক চাকরি—এসব ক্ষেত্রেও নাকি অনিয়ম চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ আর টাকার লেনদেনই সবকিছু নির্ধারণ করে। অধিদপ্তর নাকি তরুণদের উন্নয়নের জায়গা না হয়ে কয়েকজনের জন্য ‘টাকা আয় করার ক্ষেত্র’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবশেষে বলা হয়, এই বিষয়ে এম এ আখের বা মাসুদ আলমের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

