
রাজশাহী প্রতিবেদকঃ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)–এর আইসিটি বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে ডিজিটাইজেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধানকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান মো. আমির হোসাইন গত ৩০ অক্টোবর রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি ও রেকর্ড সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে ব্যাংকের ‘নেটওয়ার্ক ডিভাইস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি (এএমসি), টেন্ডার আইডি: ৭৪৪০৭২’–সংক্রান্ত কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার সত্যায়িত কপি ৪ নভেম্বরের মধ্যে দুদক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, সদর দফতরের নির্দেশে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয় এই তদন্ত পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানকারী দলে উপ-সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানও রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভেতর আগে থেকেও বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে—পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি, ঋণ বিতরণে জালিয়াতি এবং কর্মকর্তাদের লাঞ্চ ভাতার নামে বেআইনি অর্থ প্রদানসহ নানা ঘটনা ব্যাংকের সুনাম ও আর্থিক অবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নতুন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আবুল কালামকে ফোন করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণ নিয়মে প্রতি তিন বছর অন্তর কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার কথা। কিন্তু মো. আবুল কালাম ক্ষমতা ও টাকার জোরে একই কর্মস্থলে ১৭ বছর ধরে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানের বদলি ঠেকাতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সিবিএ নেতা মো. রায়হান আলীকে দিয়ে ‘মব’ তৈরি করেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চাপ প্রয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠানের একটি ভিডিও ফুটেজেও ঘটনাটির প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র বলছে, আবুল কালাম আজাদ, মো. মিজানুর রহমান ও সিবিএ সভাপতি মো. রায়হান আলী—এই তিনজন মিলে ব্যাংকের মধ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছেন।
দুদকের চলমান তদন্তে ব্যাংকের ভেতরের অনিয়ম প্রকাশ পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে—এমন আশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
ফোন নাম্বারঃ+880 1819044472