
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, লেনদেন জটিলতা, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। ইসিবি চত্বরের বিল্লাল হোসেন সড়কে নাজিম উদ্দিনের এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
গত ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাজিম উদ্দিন নামের ভূমিদস্যু নামে পরিচিত ব্যক্তি সাবেক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হেনস্থা করেছে। অভিযোগ শুনতে জানা যায় ভুক্তভোগী সাবেক সেনা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন ও সাবেক সেনা সদস্য আবুল কাশেম সহ প্রায় ১০-১২ জন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য তাদের পেনশনের টাকা দিয়ে ক্রয়-কৃত জমি তে গেলে কতিপয় সন্ত্রাসী বাধা প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা জানে রক্ষা পায়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে তারা তাদের নিজস্ব ক্রয় কৃত ঢুকতে পারে না তারা অবৈধভাবে তাদের প্রজেক্ট নাজিম উদ্দিন নামের একজন ভূমি ব্যবসায়ী আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে এই ভূমিদস্যু এই সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় নিউজ করে যা মানহানি কর। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাবেক এই কর্মকর্তারা। সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা আরো উল্লেখ করেন নাজিম উদ্দিন নামের এই ভূমিদস্যু ২০২৪ ছাত্র গণহত্যার মোহাম্মদপুর থানা মামলা নাম্বার ১৫ -মামলার তারিখ ২৮/০৮/২০২৪ এর ২৬ নম্বর আসামি হিসাবে নাজিমুদ্দিনের নাম দেখা যায় এবং এই মামলার এক নাম্বার আসামি শেখ হাসিনা। ওর সাথে আরেকটি গুলশান থানায় ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি নাজিম উদ্দিন বলে জানান। তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়। একই সাথে তিনি কমিটিতে ছিলেন এর প্রমাণও পাওয়া যায়। ছাত্র গণহত্যার সাথে জড়িত এইরকম একজন মানুষ কিভাবে সাবেক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করে বা তাদের কষ্টের অর্জিত সম্পত্তি দখল করার ধৃষ্টতা দেখায় প্রশাসন কেন এখনো নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে এগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে ভুক্তভোগীরা মনে করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নাজিম উদ্দিন নিজেকে নির্দলীয় পরিচয় দিলেও পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। তাদের অভিযোগ—তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কিনলেও অনেকের পাওনা এখনো বুঝিয়ে দেননি। কেউ কেউ দাবি করছেন, ব্যবহৃত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়, হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যারা নির্মাণকাজ চালান, তাদেরও মালামাল আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। একাধিক ক্রেতা জানান, নাজিম উদ্দিন তাদের কাছে প্লট বিক্রি করলেও দীর্ঘদিন ধরে প্লট হস্তান্তর করা হচ্ছে না। কিছু ভুক্তভোগী দাবি করেন, প্লট বিক্রি করার পরও প্রতিটি প্লটে মালিকপক্ষ নিজেদের “শেয়ার” রেখেছে বলে জানানো হয়।
একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তিনি দুই কোটি টাকার বেশি অর্থ পাওনা আছেন; কিন্তু নাজিম উদ্দিন টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তার নামে মামলা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ার দাবি করেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, তার জমির ওপর দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারছেন না। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমাধান মিলেনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের দাবি, জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে কেনা জমি ও সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়—এ জন্য তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

