মোঃ জাহিদ তালুকদার, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদারকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদীয় নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা মহিলা দলের এক নেত্রীর ছবির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ওই নেত্রীর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদারকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
তাঁদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে হাজী হুমায়ুন শিকদার ও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান নেতাকর্মীদের
হাজী হুমায়ুন শিকদারের সমর্থক নেতাকর্মীরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধ থাকলে তা সাংগঠনিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা উচিত।
তাঁদের মতে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কলাপাড়ায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান সুসংহত রাখা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সমর্থকদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং তাঁদের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই একটি রাজনৈতিক সংগঠন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাই দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলীয় ঐক্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা এবং জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অপপ্রচারের ঘটনা ঘটলে তা যাচাই-বাছাই করে সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তাঁরা আরও মনে করেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও বক্তব্যের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির প্রকৃত প্রেক্ষাপট, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
ফোন নাম্বারঃ+880 1819044472