
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবুহেনা মোরশেদ জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার আরও শক্তিশালী করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। তাকে “ফ্যাসিবাদ-ঘেঁষা চক্রের দোসর” বলেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুসারে, দীর্ঘসময় ধরে তিনি সরকারি প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নিজেকে ক্ষমতাধর অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও ‘প্রশাসনিক সুবিধা’ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-যুব সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা আছে। মতিঝিলে অবস্থিত একটি সুপরিচিত স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডিতে থাকা অবস্থায় তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতেন বলে দাবি ওঠে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—শতাধিক শিশু ও ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা, এমনকি অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও মুশতাককে দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে তিনি এক রাজনৈতিক দলের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও, ঢাকায় দীর্ঘ সময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত পরিচয় ক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সংবাদে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের চারপাশে একটি চক্র তৈরি করেন—যারা সহিংসতা, প্রতারণা, নির্বাচনী কারচুপি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভূমিকা রাখত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমকে একটি বৃহত্তর “নাশকতার পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থাকা একদল প্রভাবশালীর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সামগ্রিকভাবে, খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর—যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন প্রভাবিত করা, শিশু-নারী নির্যাতন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণা। এসব অভিযোগ যাচাই ও আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।

