
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামছুদ্দোহা বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিতে তদবির চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। চাকরিজীবন জুড়ে নানা বিতর্কে জড়িত এই কর্মকর্তা সরকারি প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও অনুমোদনে শত কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শামছুদ্দোহা প্রাথমিকভাবে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। পরে বুয়েটের হল শাখা ছাত্র লীগের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পদে বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন। ঢাকা ছাড়ার পর তিনি রমনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী, নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, এবং সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ময়মনসিংহে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদের সহযোগিতায় ময়মনসিংহ জোনের সরকারি প্রকল্পের বড় অংকের টাকা বন্টনে প্রভাব বিস্তার করেন।
ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুজ্জামান চুন্নুর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি এপিপি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ও অনুমোদনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জোনের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে শামছুদ্দোহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা গণপূর্ত জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে নিয়োগ পেতে তিনি নানা তদবির চালাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের সংস্থান ও সমন্বয় শাখার দায়িত্বে থাকায় তিনি বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শামছুদ্দোহা সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আজমের সহযোগিতায় ঢাকা জোনের পদে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এই সময়ে সম্পদ বিভাগের একশত বিশ কোটি টাকার টেন্ডার আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত সিন্ডিকেটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
শামছুদ্দোহার নাম-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তিনি বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি ব্লক এবং বারিধারায় ফ্ল্যাট মালিক। জামালপুর জেলার শরিষাবাড়িতে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে একটি রিসোর্ট নির্মাণের জন্য দশ একর জমি ক্রয় করছেন।

