
বিশেষ প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের তিন জেলায় একদিনে তিনটি অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার, ১৯ নভেম্বর, দুদকের পটুয়াখালী, রংপুর ও টাঙ্গাইল কার্যালয় থেকে আলাদা টিম এসব অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।
দুদক জানায়, প্রথম অভিযানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেখানে এনফোর্সমেন্ট টিম পাঠানো হয়। টিম প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে টেন্ডার সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে এবং তাঁর বক্তব্য নেন। টেন্ডার জমা দেওয়ার সময়সীমা এখনো ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকলেও এর মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সব নথি যাচাই করে পরে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে রংপুরের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসে ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানো, ঘুষ দাবি এবং বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগে আরেকটি দল অভিযান চালায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অভিযানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে টিম। ভিডিওতে একজনকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও এটি ঘুষ কিনা নিশ্চিত হতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন বলে জানায় দুদক।
তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায়। অভিযোগ ছিল—পিইডিপি–৪ প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং অগ্রিম বিল তুলার ঘটনা। এনফোর্সমেন্ট টিম নিরপেক্ষ প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিকভাবেই কয়েকটি অনিয়মের সত্যতা পায়। এখানে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পরে কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
পুরো দিনজুড়ে হওয়া এসব তিনটি অভিযানে স্বাস্থ্য খাত থেকে শুরু করে সরকারি নির্মাণশিলা পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

