
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বড় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলমান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ। মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে এসও তানভীর শাহরিয়ারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নেওয়া এই প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৩.২১৫ কিলোমিটারের এই কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। পুরো প্রকল্পে ৩৪টি প্যাকেজ থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অর্ধেকের বেশি—মাত্র ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলছে।
ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পংকজ কুমার সরকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১.৫০ এফএম মানের বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমভিবি ও এমটিআই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাত্র ১.৩৭ এওএম মানের বালু ব্যবহার করছিল। মান ঠিক না থাকায় টাস্কফোর্স সেই বালু বাতিল করে দেয়। এমনকি একমাস কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে গেছে।
ভাঙনপ্রবণ চর ভাটারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, যেখানে নদীর পানি বেশি গভীর, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। আবার যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বালুর পরিমাণও কম। এর আগেও টাস্কফোর্স ৪০০টি জিও ব্যাগ বাতিল করেছে।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, লোকবল সংকটের কারণে সব কাজ নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় তদারকি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এই অনিয়ম নিয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বিফল হতে পারে।

