
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা পরিষদ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকার পাশের প্রায় এক একর ৫২ শতাংশ জায়গায় ২০১৫ সালে ‘বিবর্তন’ নামে একটি বহুমুখী বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু করে জেলা পরিষদ। সে সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক প্রকল্পটির উদ্যোগ নেন।
কিন্তু এই জমির বড় অংশ—প্রায় ৭৫ শতাংশ—গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অভিযোগ, তাদের জায়গা দখল করেই জেলা পরিষদ বিশাল ভবনটি নির্মাণ করেছে। বারবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তখনকার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক তা মানেননি এবং নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, ভবনে যেই জমি দখল হয়েছে তার মূল্য ৩০ কোটি টাকারও বেশি। তারা এই জায়গার অধিকার ছাড়বেন না। ভবিষ্যতে এই ভবন গণপূর্তের অধীনে নিতে হবে অথবা পুরো নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। তবে দুই মন্ত্রণালয় যদি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ থাকতে পারে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না জানান, গণপূর্তের দাবি কতটা সঠিক, তা আগে যাচাই করা হবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে।
এদিকে ভবনটি নির্মাণের সময়ে দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ আরও পরিস্থিতি জটিল করেছে। অভিযোগ রয়েছে—গণপূর্তের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের আড়ালে কয়েক কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দোকান বরাদ্দ নেওয়া প্রায় আড়াইশ ব্যবসায়ী। তারা ১০ বছর আগে টাকা জমা দিয়ে দোকান ইজারা নিলেও এখনো কাউকে দোকানের পজিশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ভবনটি আদৌ শেষ হবে কি না তা নিয়েও অনেকে সন্দিহান। ফলে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে জমির মালিকানা নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের বিরোধ, অন্যদিকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।

