
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন—তার জীবনযাপন, সম্পত্তি আর আর্থিক লেনদেন তার সরকারি বেতন–ভাতার সঙ্গে কোনোভাবেই মিলছে না। তাদের মতে, তিনি যত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তার অনেকটাই “স্বাভাবিক আয়ের উৎস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।”
অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে প্রায় ৩৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ৬০–ফিট রোডের মাথায় চারতলা একটি ভবন, এবং বনশ্রী আমুলিয়া এলাকায় জমি—এসব সম্পত্তির মালিকানা তার নামে বা তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষায়, একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিয়মিত বেতনে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা “বাস্তবে সম্ভব নয়।”
শুধু সম্পদই নয়, প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ই/এম সার্কেল–৩ এর কিছু প্রকল্পে বিল পরিশোধ, সরঞ্জাম কেনা, কাজের মান যাচাই আর টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তাদের একজন উল্লেখ করেন যে, একটি প্রকল্পে ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি বিল প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে তাদের নথিতে দেখা যায়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্রের কথায়ও একই ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। তাদের দাবি—মাহবুবুর রহমান কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন, কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন বা বাজেট কীভাবে সমন্বয় হবে—এসব বিষয়ে তিনি অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। এমনকি সরকারি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের টাকা ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—এ ধরনের অভিযোগ খুবই গুরুতর, এবং প্রাথমিক তথ্য মিলে গেলে অবশ্যই তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার বা আর্থিক কারসাজি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, কোনো সরকারি কর্মচারীর আয়–ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তারা প্রথমে প্রাথমিকভাবে যাচাই করেন, এরপর প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মাহবুবুর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে, প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার বণ্টন, বিল প্রক্রিয়াকরণ—এসব জায়গায় তিনি প্রভাব খাটান। অনেকে ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না, তবে গোপনে তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
সর্বশেষ প্রশ্নটি এখনো সবার মুখে—তার সম্পদের প্রকৃত উৎস কী? অভিযোগকারীদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এখন “শত কোটি টাকার কাছাকাছি” হতে পারে, যার কোনো স্বচ্ছ উৎস তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।
এই অভিযোগগুলো এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগগুলো সত্য কিনা, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। মাহবুবুর রহমানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

