
বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেটে জলবায়ু প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নানা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প পরিচালনার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কাজের মান বজায় রাখাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গরমিল পাওয়া গেছে। নথিটি জারি করেন এলজিইডি সিলেট বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুল সামাদ।
অভিযোগগুলোর মধ্যে বলা হয়েছে—২০২০ সালের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, বিল–ভাউচার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয়নি, এমনকি কিছু জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার কথা থাকলেও, USA, Canada, Australia, Japan এবং ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ হয়নি। বিশেষভাবে TUV ও DNV–এর স্বীকৃত মান না থাকায় প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
রক্ষণাবেক্ষণ বা Gob Maintenance খাতে ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নথিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে যে কাজ বাস্তবে হয়েছে তার সঙ্গে খরচের অংক মিলে না। দুই অর্থবছর—২০২০–২১ এবং ২০২১–২২—এ ব্যয় বরাদ্দের মধ্যেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ এগোয়নি—এসব বিষয় তদন্তের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইনামুল কবীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অফিস পরিবর্তন করে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ করা বেশ কঠিন ছিল। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পিডির সঙ্গে দেখা করতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।
সরকারি দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এজন্যই বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের নজরে পাঠানো হয়েছে, এবং এলজিইডির পক্ষ থেকেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ইনামুল কবীর সংক্ষেপে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

