
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে এখনো বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সামনে এমন সময় আসবে যখন কেউ চাইলে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া কোনো ধরনের ব্যবসা চালাতে পারবেন না। তিনি জানান, ধীরে ধীরে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ নিবন্ধন অভিযান চলবে, যেখানে লক্ষ্য রাখা হয়েছে কমপক্ষে এক লাখ নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা। বর্তমানে দেশে মোট ৬ লাখ ৪৪ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত আছে।
তিনি আরও জানান, ভ্যাট দেওয়ার ঝামেলা কমাতে “এক ক্লিকেই ভ্যাট পরিশোধ” ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা হবে। কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এই সুবিধা ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচবে।
ই-রিটার্ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ই-রিটার্ন জমা পড়েছে এবং বছর শেষে ৪০ লাখে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক–সংক্রান্ত চারটি তথ্য দিতে হয়, যার কারণে করদাতাদের ব্যাংকে যেতে হয়। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হবে যাতে মানুষকে আর বাড়তি ঝামেলায় পড়তে না হয়। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, অনেকের ধারণা রাজস্ব কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য দেখতে পারেন—কিন্তু বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, যারা নিয়ম মানছে তাদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হবে না। যারা নিয়ম ভেঙে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হবে।
এই বছর ভ্যাট পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি জানান। পুরস্কারের নীতিমালা পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে পুনরায় পুরস্কার কার্যক্রম চালু হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

