
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের কারণে স্থবির হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ায় নিয়ে আশার আলো দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ খুলে দিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালির দুই তীরের দুই দেশ ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা মাত্রই ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন পদক্ষেপগুলো আগের মতোই ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ট্রাম্প প্রশাসন বারবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সংকেত দিলেও ইরান প্রতিবারই এমন কোনো বৈঠকের কথা অস্বীকার করে এসেছে। ফলে বর্তমান আলোচনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটুকু স্থায়ী সমাধান আনবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও জাহাজ লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়িয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি’ (এডনক) শুক্রবার জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় তাদের ১৫টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত তাদের এক ক্রু সদস্য নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ওমান চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।

