
ডেস্ক নিউজ : কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীদের খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবনা দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক কিডনি রোগীর জীবন রক্ষায় ডায়ালাইসিস ফিল্টার একটি অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা উপকরণ। কিন্তু বর্তমানে এই পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ করভার থাকায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধার কারণে রোগীদের প্রতি ডায়ালাইসিসে ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এছাড়া মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত মর্চুয়ারি (Mortuary) আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক থাকলেও তা কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়াও ওষুধ শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে-
১) ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানি: দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খাতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২) Active Pharmaceutical Ingredient (API) তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার: ওষুধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩) ওষুধ শিল্পের নতুন ১৭টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে নতুন করে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত করে আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
৪) ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত বায়োলজিক্যাল সেফটি ক্যাবিনেট আমদানিতে শুল্ক ছাড়: বায়োলজিক্যাল সেফটি ক্যাবিনেট আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক হ্রাস করে ১ শতাংশ নির্ধারণপূর্বক এটিকে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৫) স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম আমদানিতে শুল্ক ছাড়: ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম, আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের পরিবর্তে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে বাজেটে।
সরকারের এসব উদ্যোগ চিকিৎসা খাতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

