
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পূর্ব উপকূল থেকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।
রোববারের (২০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় দফার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ওনসান এলাকা থেকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রটি হোয়াসং-১১ সিরিজের।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে একই এলাকা থেকে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষ্য, এটি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রথম উৎক্ষেপণটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে গিয়ে পড়েছে।
জেসিএস জানায়, উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গেও তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়ে পরিষদ বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন।
ঘটনার কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপানও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড জাপান, আঞ্চলিক দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এর এক দিন আগে শনিবার দেশটি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি নৌ মহড়ারও সমালোচনা করে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের অংশগ্রহণে মহড়াটি ২৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুয়ামের কাছে অনুষ্ঠিত হয়।

