
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত চলার মধ্যেই অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ইসরায়েলের। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। এ সময়ে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাত চললেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানির বড় একটি অংশ গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। বিশেষ করে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মরক্কো ও বাহরাইন গত পাঁচ বছরে ইসরায়েল থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে।
এই তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি ইসরায়েলের কাছ থেকে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা বিমান সংগ্রহ করেছে।
দুই দেশের সহযোগিতা অবশ্য শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি দুই দেশ যৌথভাবে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে আব্রাহাম চুক্তির অপর দুই অংশীদার মরক্কো ও বাহরাইনও। দেশ দুটি ইসরায়েলের কাছ থেকে স্যাটেলাইট, রাডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের তুলনামূলক সীমাবদ্ধতার কারণে আমিরাতের মতো বড় পরিসরে শিল্প সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি তারা।
আইআইএসএসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশটির অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

