
মোঃ জাহিদ তালুকদার, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, সরবরাহ ও পাচারকে কেন্দ্র করে কথিত একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিএনপির যুবদল নেতা রিয়াজ তালুকদারকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘হাওলাদার স্টোর’ পোঃ মোঃ বসির মেম্বার। নামের দোকানটি থেকে মুদি মালামালের পাশাপাশি পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়। দোকানটির মালিকানা ও জ্বালানি তেল সরবরাহের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কলাপাড়া থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে অন্যত্র সরবরাহ এবং সীমান্তপথে ভারতে পাচারের সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন যুবদল নেতা রিয়াজ তালুকদার। তার অভিযোগ, ঘটনার পুরো ভিডিও প্রকাশ না করে ভিডিওর খণ্ডিত অংশের ভিত্তিতে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার অনুসারী ও স্থানীয়দের একাংশ প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ও প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কলাপাড়ায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, পরিবহন বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ সত্য হলে তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণ ছাড়া প্রচার না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদীতে একটি ট্রলার থেকে ৩ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে জ্বালানি সরবরাহের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—কলাপাড়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে অনিয়ম ও কথিত সিন্ডিকেটের অভিযোগের স্থায়ী সমাধান হবে কবে?
সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষ যেন ন্যায্য মূল্যে এসব প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্য কিনতে পারেন, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক

