
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ডিজেল সংকট আগামী বছরেও কাটার সম্ভাবনা কম। ফলে জ্বালানির বাড়তি দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও দীর্ঘ সময় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজন ও বাজার বিশ্লেষকেরা।
ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। একই সময়ে বিভিন্ন দেশে ডিজেলের মজুত ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমে গেছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে জ্বালানিটির দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ডিজেলের এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। কৃষি, উৎপাদনশিল্প ও ভারী পরিবহন—অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব খাতেই ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেল সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে দেশটিতে খুচরা ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।
এই বাড়তি দাম কৃষক ও ট্রাকচালকদের ওপর বড় ধরনের ব্যয়চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্যও রাজনৈতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মজুত রাখার জায়গাও কমছে
ডিজেল সংকট যে দ্রুত কাটছে না, তার আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে জ্বালানি সংরক্ষণ বা স্টোরেজ বাজারে।
স্টোরেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ট্যাংক টাইগার’-এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শোধনাগার ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা ডিজেল সংরক্ষণের জন্য নেওয়া গুদাম বা স্টোরেজের লিজ নবায়ন করছেন না। এর অন্যতম কারণ, সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত ডিজেলই পাওয়া যাচ্ছে না।
অর্থাৎ, বাজারে সরবরাহ এতটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে ডিজেল মজুত করার পরিবর্তে বিদ্যমান সংকট সামাল দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
২০২৭ সালেও থাকতে পারে চাপ
বাজারের মজুত পরিস্থিতি এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর পর্যন্তও ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের স্বস্তি নাও ফিরতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট বিভিন্ন বিঘ্নের কারণে বাজারে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডিজেলের উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়িয়ে যেতে পারে।
ডিজেলনির্ভর এসব খাতে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন ও দৈনন্দিন পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী ডিজেল সংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে থেকে যেতে পারে।

