
ডেস্ক নিউজ : সুন্দরবনে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ঘটনায় বন বিভাগের তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা এবং সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি দাখিল করেছে।
কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মো. জাহাঙ্গীর আলম।
তদন্ত কমিটির প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবাড়িয়া এলাকায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খাল থেকে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে ফেরার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ দুই জেলেকে আটক করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে আটক দুই জেলেকে মাছ ও নৌকাসহ ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ।
ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সুন্দরবনের খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং আটক জেলেদের মাছ ও নৌকাসহ ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনটি বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে। সুন্দরবনে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে বিষ প্রয়োগের মতো নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ঘটনায় বন বিভাগের এ তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

